ভারত-বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হামলা- ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদ ও তার তোষণেরই ফল
আন্দোলন প্রতিবেদন
শনিবার, ৬ আগস্ট ২০২২ | অনলাইন সংস্করণ
সারাদেশে বিভিন্ন সময়ে হিন্দুসহ সংখ্যালঘু শিক্ষক এবং জনগণের উপর হামলা-অপমান-লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেই চলেছে। নড়াইলের শিক্ষক স্বপন কুমারকে লাঞ্ছনা এবং সাভারের শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার হত্যাকাণ্ড, মুন্সিগঞ্জের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে লাঞ্ছনা করে জেল-হাজতে পাঠানো ফ্যাসিবাদী চেতনারই উলঙ্গ প্রকাশ। ইসলাম-ধর্মের আবমাননার নামে নড়াইলে শাহপাড়ায় হিন্দু জনগণের বাড়ীতে আগুন দেয়া, মন্দির দোকানপাট ভাঙ্গচুর, লুটপাট- এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর উৎস অত্যন্ত গভীর। ভারতে মোদি সরকারের হিন্দুত্ববাদী ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদ এবং বাংলাদেশে আওয়ামী সরকারের ধর্মবাদ-তোষণকারী ও ভারত-দালালীর উগ্র জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিবাদ একই সূত্রে গাঁথা। এই ফ্যাসিবাদ তাদের নেতা-কর্মী-কেডারদের জগৎ ছাড়িয়ে জনগণের একাংশের মধ্যে গভীরভাবে প্রভাব ফেলছে।
আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার বিভিন্ন কালাকানুন করে সারাদেশে তার ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছে এবং জনগণের উপর দমন-নিপীড়ন-আক্রমণ চালাচ্ছে। একইভাবে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজগুলোতে সন্ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের নির্যাতন করে আওয়ামী রাজনীতি করতে বাধ্য করছে, বিরোধী মতের ছাত্র সংগঠনের উপর বর্বর হামলা চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগের মদদে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কেডারদের নেতৃত্বে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাং তৈরি হয়েছে। শিক্ষক উৎপল দত্তের হত্যাকারী কিশোরদের কাছে ‘দাদা’ হিসেবে পরিচিত ছিল। এই গ্যাংগুলোকে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের ভোটের রাজনীতিতে কেডার বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করছে।
আওয়ামী কিশোর গ্যাং প্রচুর ক্ষমতার অধিকারী হয়। তারা ধরাকে সরা জ্ঞান করে। সাধারণ জনগণের উপর চাঁদাবাজী করে। নারী ধর্ষণ-ইভটিজিং করে। প্রতিবাদী জনগণ তাদের হামলার শিকার হন। ইতিপূর্বে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে। এদের ভয়ে জনগণ তটস্থ, আতঙ্কিত এবং অসহায়। তাই কিশোর গ্যাং-এর ‘দাদা’ যখন শিক্ষক উৎপল কুমারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে তখন কেউ তার প্রতিবাদে এগিয়ে আসেনি।
একই সাথে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ মুসলিম জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিকে তাদের গণবিরোধী রাজনীতিতে ব্যবহার করার জন্য ধর্মবাদীদের মধ্যযুগীয় ধর্মান্ধতাকে মদদ-উৎসাহ যুগিয়ে যাচ্ছে। ধর্মনিরপেক্ষ নামধারী ফ্যাসিবাদী সরকার রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে সংবিধানে বহাল রেখেছে। বিজ্ঞান ভিত্তিক, ধর্মবিযুক্ত, উৎপাদনমুখী, বৈষম্যহীন, মাতৃভাষায় শিক্ষার ব্যবস্থা চালু না করে ব্যাপকভাবে মাদ্রাসা শিক্ষা চালু করেছে। লক্ষ লক্ষ কোমলমতি শিশু-কিশোর এবং তরুণ-যুবকদের ধর্মবাদী চেতনায় সজ্জিত করছে। এই মাদ্রাসাগুলোতে আরবি ভাষা শিখতে ছাত্র-ছাত্রীদের বাধ্য করছে। তাদের বিজ্ঞান বিমুখ করে ধর্মবাদের অন্ধবিশ্বাসের ভাববাদী জগতে নিক্ষেপ করছে। মুন্সিগঞ্জের শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল বিজ্ঞানের পাঠ দিতে গিয়ে ধর্মান্ধ শিক্ষার্থীদের রোষানলের শিকার হয়েছিলেন।
ধর্মের সমালোচনাকারী বা নিজ নিজ বিশ্বাসের লোকদের উপর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের নামে পুলিশ লেলিয়ে হেনস্থা-হয়রানি করার আইন করে হাসিনা সরকার ধর্মবাদী উম্মাদনার বিষবাষ্প জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ভারতের মোদির হিন্দুত্ববাদ সে দেশের সংখ্যালঘু মুসলিম জনগণের উপর বর্বরতা চালাচ্ছে। মোদি-হাসিনার নেতা-কর্মীরা এগুলোকে উসকে দিচ্ছে। মোদি সরকারের মুখপাত্র নুপূর শর্মা নবী মোহাম্মদকে নিয়ে প্রকাশ্যে কটূক্তি করলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর চাপে নুপূর শর্মাকে মোদি সরকার সাময়িক বরখাস্ত করে বটে, কিন্তু তাকে গ্রেপ্তার করেনি। ইতিমধ্যে ভারতের আদালত তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে না বলেও রায় দিয়েছে। বিপরীতে নুপূর শর্মার এ ভিডিও জনসমক্ষে আনার অভিযোগে একজন পরিচিত মুসলিম বুদ্ধিজীবীকে গ্রেফতার করেছে। মুসলিম দোকানীর কাগজের ঠোঙায় হিন্দু দেব-দেবীর ছবি থাকার ‘অপরাধে’ তাকে গ্রেপ্তার করে জেল-হাজতে পাঠিয়েছে। হিন্দু মন্দিরের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে গরু জবাই করা যাবে না- ইত্যাদি বহু হিন্দুত্ববাদী ফর্মুলায় মুসলিম জনগণের উপর নিপীড়ন চলছে। মোদি সরকারের এহেন কার্যক্রমকে হাসিনা সরকার কোনো প্রতিবাদ করছে না। বরং মুসলিম জনগণের প্রতিক্রিয়ায় গত মাসে বিহারি জনগণের উপর বর্বর হামলা চালিয়েছে পুলিশ বাহিনী।
মুন্সিগঞ্জের ও নড়াইলের শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় স্থানীয় প্রভাবশালী স্কুল কর্তৃপক্ষের দ্বন্দ্বের শিকার হিসেবে পত্রপত্রিকায় উঠে এসেছে, যারা আওয়ামী নেতা হিসেবে পরিচিত। তারা হাসিনা-আওয়ামী লীগ সরকারের “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত” হাতিয়ারটি হিন্দু জনগণ ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের’ নামে আওয়ামী প্রভাবশালী নেতাদের যড়যন্ত্রের শিকার হলেন অধ্যক্ষ স্বপন কুমার। পরিকল্পিতভাবে জনতাকে উত্তেজিত করে এবং জুতার মালা দিয়ে অধ্যক্ষকে অপমান-লাঞ্ছনা করেছে। এসব করেছে ডিসি, এসপি, ওসি এবং তাদের নেতৃত্বে ২৫০ পুলিশের উপস্থিতিতে। যারা এই জঘণ্য কর্মকাণ্ডে কোনো বাধাই দেয়নি। এভাবে জনগণের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভেদ-দাঙ্গা সৃষ্টি করে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করছে।
এ সব ঘটনায় সারাদেশে যখন প্রতিবাদের ঝড় ওঠে, সরকার তখন কয়েকজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে পাঠায়। কিন্তু মূল হোতারা আড়ালেই থেকে যায় এবং বেনামে কয়েকশ লোকের নামে মামলা হয়, তদন্ত কমিটি করা হয়। গত বছরের ১৩ অক্টোবরে কুমিল্লা শহরের পূজা মণ্ডপে কোরআন উদ্ধার ঘটনায় শেষপর্যন্ত একজনকে পাগল সাজিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘটনা ঘটার পর এভাবেই ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে। প্রকৃত দোষীরা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।
ধর্মবাদকে সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ এবং দালাল আমলা-মুৎসুদ্দি শ্রেণি তাদের শোষণ-শাসনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। যা অতি পরিচিত পুরোনো কৌশল। ভারতে যত হিন্দুত্ববাদী আক্রমণ এবং বাংলাদেশের মুসলিম ধর্মবাদী আক্রমণ/বর্বরতা হয়েছে সেগুলোর দায় সম্পূর্ণভাবেই ভারত-বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সরকারের। এবং তাদের বর্তমান প্রতিনিধি মোদির বিজেপি’র হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্ট সরকার এবং দেশের ভারত-দালাল হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের। এদেরকে উন্মোচন না করে এদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম কেন্দ্রীভূত না করে, তাদের শাসন ব্যবস্থাকে উচ্ছেদ না করে কোনো ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদকে উচ্ছেদ করা যাবে না, সম্ভব নয়।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ভারত-বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হামলা- ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদ ও তার তোষণেরই ফল
সারাদেশে বিভিন্ন সময়ে হিন্দুসহ সংখ্যালঘু শিক্ষক এবং জনগণের উপর হামলা-অপমান-লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেই চলেছে। নড়াইলের শিক্ষক স্বপন কুমারকে লাঞ্ছনা এবং সাভারের শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার হত্যাকাণ্ড, মুন্সিগঞ্জের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে লাঞ্ছনা করে জেল-হাজতে পাঠানো ফ্যাসিবাদী চেতনারই উলঙ্গ প্রকাশ। ইসলাম-ধর্মের আবমাননার নামে নড়াইলে শাহপাড়ায় হিন্দু জনগণের বাড়ীতে আগুন দেয়া, মন্দির দোকানপাট ভাঙ্গচুর, লুটপাট- এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর উৎস অত্যন্ত গভীর। ভারতে মোদি সরকারের হিন্দুত্ববাদী ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদ এবং বাংলাদেশে আওয়ামী সরকারের ধর্মবাদ-তোষণকারী ও ভারত-দালালীর উগ্র জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিবাদ একই সূত্রে গাঁথা। এই ফ্যাসিবাদ তাদের নেতা-কর্মী-কেডারদের জগৎ ছাড়িয়ে জনগণের একাংশের মধ্যে গভীরভাবে প্রভাব ফেলছে।
আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার বিভিন্ন কালাকানুন করে সারাদেশে তার ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছে এবং জনগণের উপর দমন-নিপীড়ন-আক্রমণ চালাচ্ছে। একইভাবে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজগুলোতে সন্ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের নির্যাতন করে আওয়ামী রাজনীতি করতে বাধ্য করছে, বিরোধী মতের ছাত্র সংগঠনের উপর বর্বর হামলা চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগের মদদে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কেডারদের নেতৃত্বে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাং তৈরি হয়েছে। শিক্ষক উৎপল দত্তের হত্যাকারী কিশোরদের কাছে ‘দাদা’ হিসেবে পরিচিত ছিল। এই গ্যাংগুলোকে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের ভোটের রাজনীতিতে কেডার বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করছে।
আওয়ামী কিশোর গ্যাং প্রচুর ক্ষমতার অধিকারী হয়। তারা ধরাকে সরা জ্ঞান করে। সাধারণ জনগণের উপর চাঁদাবাজী করে। নারী ধর্ষণ-ইভটিজিং করে। প্রতিবাদী জনগণ তাদের হামলার শিকার হন। ইতিপূর্বে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে। এদের ভয়ে জনগণ তটস্থ, আতঙ্কিত এবং অসহায়। তাই কিশোর গ্যাং-এর ‘দাদা’ যখন শিক্ষক উৎপল কুমারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে তখন কেউ তার প্রতিবাদে এগিয়ে আসেনি।
একই সাথে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ মুসলিম জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিকে তাদের গণবিরোধী রাজনীতিতে ব্যবহার করার জন্য ধর্মবাদীদের মধ্যযুগীয় ধর্মান্ধতাকে মদদ-উৎসাহ যুগিয়ে যাচ্ছে। ধর্মনিরপেক্ষ নামধারী ফ্যাসিবাদী সরকার রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে সংবিধানে বহাল রেখেছে। বিজ্ঞান ভিত্তিক, ধর্মবিযুক্ত, উৎপাদনমুখী, বৈষম্যহীন, মাতৃভাষায় শিক্ষার ব্যবস্থা চালু না করে ব্যাপকভাবে মাদ্রাসা শিক্ষা চালু করেছে। লক্ষ লক্ষ কোমলমতি শিশু-কিশোর এবং তরুণ-যুবকদের ধর্মবাদী চেতনায় সজ্জিত করছে। এই মাদ্রাসাগুলোতে আরবি ভাষা শিখতে ছাত্র-ছাত্রীদের বাধ্য করছে। তাদের বিজ্ঞান বিমুখ করে ধর্মবাদের অন্ধবিশ্বাসের ভাববাদী জগতে নিক্ষেপ করছে। মুন্সিগঞ্জের শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল বিজ্ঞানের পাঠ দিতে গিয়ে ধর্মান্ধ শিক্ষার্থীদের রোষানলের শিকার হয়েছিলেন।
ধর্মের সমালোচনাকারী বা নিজ নিজ বিশ্বাসের লোকদের উপর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের নামে পুলিশ লেলিয়ে হেনস্থা-হয়রানি করার আইন করে হাসিনা সরকার ধর্মবাদী উম্মাদনার বিষবাষ্প জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ভারতের মোদির হিন্দুত্ববাদ সে দেশের সংখ্যালঘু মুসলিম জনগণের উপর বর্বরতা চালাচ্ছে। মোদি-হাসিনার নেতা-কর্মীরা এগুলোকে উসকে দিচ্ছে। মোদি সরকারের মুখপাত্র নুপূর শর্মা নবী মোহাম্মদকে নিয়ে প্রকাশ্যে কটূক্তি করলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর চাপে নুপূর শর্মাকে মোদি সরকার সাময়িক বরখাস্ত করে বটে, কিন্তু তাকে গ্রেপ্তার করেনি। ইতিমধ্যে ভারতের আদালত তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে না বলেও রায় দিয়েছে। বিপরীতে নুপূর শর্মার এ ভিডিও জনসমক্ষে আনার অভিযোগে একজন পরিচিত মুসলিম বুদ্ধিজীবীকে গ্রেফতার করেছে। মুসলিম দোকানীর কাগজের ঠোঙায় হিন্দু দেব-দেবীর ছবি থাকার ‘অপরাধে’ তাকে গ্রেপ্তার করে জেল-হাজতে পাঠিয়েছে। হিন্দু মন্দিরের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে গরু জবাই করা যাবে না- ইত্যাদি বহু হিন্দুত্ববাদী ফর্মুলায় মুসলিম জনগণের উপর নিপীড়ন চলছে। মোদি সরকারের এহেন কার্যক্রমকে হাসিনা সরকার কোনো প্রতিবাদ করছে না। বরং মুসলিম জনগণের প্রতিক্রিয়ায় গত মাসে বিহারি জনগণের উপর বর্বর হামলা চালিয়েছে পুলিশ বাহিনী।
মুন্সিগঞ্জের ও নড়াইলের শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় স্থানীয় প্রভাবশালী স্কুল কর্তৃপক্ষের দ্বন্দ্বের শিকার হিসেবে পত্রপত্রিকায় উঠে এসেছে, যারা আওয়ামী নেতা হিসেবে পরিচিত। তারা হাসিনা-আওয়ামী লীগ সরকারের “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত” হাতিয়ারটি হিন্দু জনগণ ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের’ নামে আওয়ামী প্রভাবশালী নেতাদের যড়যন্ত্রের শিকার হলেন অধ্যক্ষ স্বপন কুমার। পরিকল্পিতভাবে জনতাকে উত্তেজিত করে এবং জুতার মালা দিয়ে অধ্যক্ষকে অপমান-লাঞ্ছনা করেছে। এসব করেছে ডিসি, এসপি, ওসি এবং তাদের নেতৃত্বে ২৫০ পুলিশের উপস্থিতিতে। যারা এই জঘণ্য কর্মকাণ্ডে কোনো বাধাই দেয়নি। এভাবে জনগণের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভেদ-দাঙ্গা সৃষ্টি করে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করছে।
এ সব ঘটনায় সারাদেশে যখন প্রতিবাদের ঝড় ওঠে, সরকার তখন কয়েকজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে পাঠায়। কিন্তু মূল হোতারা আড়ালেই থেকে যায় এবং বেনামে কয়েকশ লোকের নামে মামলা হয়, তদন্ত কমিটি করা হয়। গত বছরের ১৩ অক্টোবরে কুমিল্লা শহরের পূজা মণ্ডপে কোরআন উদ্ধার ঘটনায় শেষপর্যন্ত একজনকে পাগল সাজিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘটনা ঘটার পর এভাবেই ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে। প্রকৃত দোষীরা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।
ধর্মবাদকে সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ এবং দালাল আমলা-মুৎসুদ্দি শ্রেণি তাদের শোষণ-শাসনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। যা অতি পরিচিত পুরোনো কৌশল। ভারতে যত হিন্দুত্ববাদী আক্রমণ এবং বাংলাদেশের মুসলিম ধর্মবাদী আক্রমণ/বর্বরতা হয়েছে সেগুলোর দায় সম্পূর্ণভাবেই ভারত-বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সরকারের। এবং তাদের বর্তমান প্রতিনিধি মোদির বিজেপি’র হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্ট সরকার এবং দেশের ভারত-দালাল হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের। এদেরকে উন্মোচন না করে এদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম কেন্দ্রীভূত না করে, তাদের শাসন ব্যবস্থাকে উচ্ছেদ না করে কোনো ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদকে উচ্ছেদ করা যাবে না, সম্ভব নয়।
আরও খবর
- শনি
- রোব
- সোম
- মঙ্গল
- বুধ
- বৃহ
- শুক্র